জাওয়াদ দ্রুত একটি পুরোনো জং ধরা ট্রাকের
আড়ালে ঝাঁপ দিল। টাস-টাস শব্দে
ট্রাকের বডিতে লেজার রশ্নি বিঁধছে। জাওয়াদ বুঝতে পারল, শুধু দৌড়ে এই
প্রযুক্তির হাত থেকে বাঁচা যাবে না। তাকেও প্রযুক্তি দিয়েই লড়তে হবে।
সে তার ব্যাগের পকেট থেকে নিজের কাস্টমাইজড 'আরডুইনো'
ট্যাবটি
বের করল। এটি সে নিজেই তৈরি করেছে ওয়াই-ফাই এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি জ্যাম করার
জন্য। তার আঙুলগুলো ট্যাবের স্ক্রিনে বিদ্যুৎগতিতে চলতে লাগল।
"ইনসাফের জয় হবেই," সে বিড়বিড় করল।
ড্রোনটি ট্রাকের ওপর দিয়ে উড়ে এসে জাওয়াদের
মাথার ঠিক ওপরে অবস্থান নিল। লেজার লক্ষ্যস্থির করার লাল বিন্দুটি জাওয়াদের কাঁধে
এসে পড়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে জাওয়াদ ট্যাবের 'এন্টার' বাটন
চাপল।
হঠাৎ ড্রোনের নীল আলো লাল হয়ে গেল। সেটি
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বনবন করে ঘুরতে শুরু করল। জাওয়াদের জ্যামার ড্রোনটির কন্ট্রোল
সিগন্যাল হাইজ্যাক করে নিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে ড্রোনটি সজোরে পাশের ইটের দেয়ালে
ধাক্কা খেয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল।
ছদ্মবেশী লোকটি চিৎকার করে উঠল, "শয়তান
ছোকরা! তুমি আমার ড্রোন নষ্ট করলে?" সে পকেট থেকে পিস্তল বের করতে যাবে,
এমন
সময় জাওয়াদ একটি ধোঁয়া উৎপাদনকারী 'স্মোক গ্রেনেড' (যা সে পটাশিয়াম
নাইট্রেট আর চিনি দিয়ে নিজেই বানিয়েছে) লোকটির পায়ের কাছে ছুড়ে মারল।
পুরো এলাকা সাদা ধোঁয়ায় ঢেকে গেল। লোকটির কাশির
শব্দ ছাপিয়ে জাওয়াদ অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পাঁচিল টপকে ওপারে চলে গেল।
সেখানে একটি পুরোনো সাইকেল পড়ে ছিল। জাওয়াদ
সময় নষ্ট না করে ওটা নিয়েই প্যাডেল মারল লালবাগের দিকে। মাহিনের দেওয়া সেই
ঠিকানাটি তার মাথায় ঘুরছে— 'লালবাগ কেল্লার
দক্ষিণ পাশের পুরোনো লাইব্রেরি, কক্ষ নম্বর ৩১৩।'
রাত তখন গভীর। লালবাগের সরু গলিগুলো রহস্যময়
নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে মনে হচ্ছে যেন কোনো ছায়ামূর্তি তাকে
অনুসরণ করছে। জাওয়াদ যখন কেল্লার কাছের সেই জীর্ণ লাইব্রেরির সামনে পৌঁছাল,
তখন
চারপাশ একদম শুনশান।
লাইব্রেরির কাঠের দরজাটি সামান্য ফাঁক হয়ে আছে।
ভেতরে ধুলো আর পুরোনো কাগজের গন্ধ। জাওয়াদ তার ছোট টর্চটি জ্বলাল। ৩১৩ নম্বর
কক্ষটি একদম পেছনের দিকে। দরজায় পৌঁছাতেই সে দেখল সেখানে কোনো আধুনিক তালা নেই,
বরং
একটি প্রাচীন গাণিতিক ধাঁধা (Cipher) খোদাই করা।
ধাঁধাটি হলোঃ “ইসলামী
স্বর্ণযুগের শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল-বাত্তানির জন্মসাল কত?”
জাওয়াদ মুচকি হাসল। সে জানে উত্তরটি— ৮৫৮
খ্রিস্টাব্দ। সে ডায়ালে ৮-৫-৮ সেট করতেই 'খট' করে দরজাটি খুলে
গেল।
ভেতরে ঢুকতেই জাওয়াদ স্তম্ভিত হয়ে গেল। ঘরের
মাঝখানে একটি বড় হোলোগ্রাফিক ম্যাপ জ্বলছে, যাতে বাংলাদেশের
সমুদ্রসীমার একটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট চিহ্নিত করা। আর সেই ম্যাপের সামনে দাঁড়িয়ে
আছেন একজন বৃদ্ধ মানুষ, যাঁর দীর্ঘ দাড়ি আর পরনে সাদা জুব্বা।
"তুমি এসেছ জাওয়াদ? আমি জানতাম
আল্লাহ তোমাকে সঠিক পথ দেখাবেন," বৃদ্ধ শান্ত স্বরে বললেন।
জাওয়াদ অবাক হয়ে বলল, "আপনি
কে? আর আপনি আমার নাম জানলেন কীভাবে?"
পরবর্তী অধ্যায়ে আসছেঃ সমুদ্রের তলদেশের গোপন ল্যাবরেটরি ও
বিশ্বাসঘাতকতার নীল নকশা।
[এই উপন্যাসে বর্ণিত সকল চরিত্র, স্থান এবং ঘটনাবলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তবের কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। কাহিনীর প্রয়োজনে কিছু গোয়েন্দা কৌশল ও প্রযুক্তির উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিছক বিনোদনের উদ্দেশ্যে রচিত। গল্পের অলঙ্করণে ব্যবহৃত ফিচার ইমেজের কোনো চরিত্রের সাথে যদি কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির চেহারার মিল পাওয়া যায়, তবে তা নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত এবং কাকতালীয়। লেখক কোনো উগ্রতা বা সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেন না; বরং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই এবং নৈতিক মূল্যবোধকে তুলে ধরাই এই গল্পের মূল লক্ষ্য।]


আপনার মূল্যবান মতামত দিন। আমরা আপনার কমেন্টের অপেক্ষায় আছি! দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য করুন এবং কোনো স্প্যাম বা বিজ্ঞাপন লিংক শেয়ার করবেন না।